Main Menu

মফস্বলের কবির এ সম্মাননায় খুশি এলাকাবাসি

সাহিত্যে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রিয় পুরস্কার পেলেন মাগুরার কবি আমির হামজা

WhatsApp Image 2022-03-15 at 5.29.30 PM

বিশেষ প্রতিনিধি, মাগুরাবার্তা
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১০ গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২’ প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সাহিত্যে মাগুরার শ্রীপুরের কৃতি সন্তান মরহুম মো. আমির হামজার নাম রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আমির হামজার জন্ম ১৯৩১ সালে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার বরিশাট গ্রামে। কৈশোরে পিতৃহীন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা তার খুব বেশি এগোয়নি, পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এরমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বরিশাট কাজীপাড়া সরকারি বিদ্যালয় থেকে। এরপর ভর্তি হন মহেশচন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। তার বাবা ইমারত সরদার মা অবিরন। কবি আমির হামজা একাধারে কবি গীতিকার ও সুরকার। ‘তিনি কেবল গীতিকবি নন, নিজে গাইতেনও। প্রতিযোগিতামূলক কবিগান ও পালাগান করে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যে, গানের আসরেই গান লিখে ও সুর করে পরিবেশন করতে পারতেন। তার কবি জীবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাৎক্ষণিক দেশ ও জাতির হয়ে শ্রোতার চাহিদা অনুযায়ী গান লিখে পরিবেশন করতেন।’ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর বাহিনীতে যোগ দিয়ে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেন বলেও তার নিজ বইয়ের লেখক পরিচিতিতে লেখা আছে। তাতে আরও বলা হয়েছে, ‘তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘বাঘের থাবা’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গ্রন্থটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ’পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মুজিব তুমি’ শীর্ষক গানের বইটি কবির প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও তার অবিনাশী রাষ্ট্রদর্শন এখানে উঠে এসেছে। বইটিতে মোট গানের সংখ্যা ৫২টি। কবি ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি মারা যান। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য কবিকে ২০১৫ সালে সারথি ফাউন্ডেশন সম্মাননা প্রদান করা হয়।’ এছাড়াও ‘একুশের পাঁচালি’ নামে তার আরেকটি বই প্রকাশ হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দিয়ে আসছে। এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বর্তমানে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দিয়ে থাকে সরকার। তার সঙ্গে এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তরা হচ্ছেন–স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী, শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম), আব্দুল জলিল, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, প্রয়াত মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস এবং প্রয়াত সিরাজুল হক। চিকিৎসাবিদ্যায় পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম, স্থাপত্যে প্রয়াত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে পুরস্কার পাচ্ছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডাব্লিউএমআরআই)। পুরস্কারজয়ী প্রত্যেকে পাবেন ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, পাঁচ লাখ টাকার চেক ও একটি সম্মাননাপত্র।
এদিকে মাগুরার মত ছোট জেলার একজন কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকার কবি সাহিত্যিক ও সাধারণ মানুষ। মাগুরার সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরধ্বনি সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক কবি ও সংগীত শিল্পী বাসনা রায় এক প্রতিক্রিয়ায় জানান- আমরা যারা ছোট শহরে কিংবা গ্রামে বাস করি। সাধারণত তাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ কম থাকে। সেক্ষেত্রে শ্রীপুরের বরিশাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কবি আমির হামজার এ পুরস্কার প্রাপ্তি আমাদের জন্য গর্বের। শ্রীপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠন সারথি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিকদার মঞ্জুর আলম জানান- চারণ কবি আমির হামজার এ পুরস্কার প্রাপ্তিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমৃত্যু আমাদের সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে গেছেন। তার এ পুরস্কার প্রাপ্তি আমাদের সংস্কৃতি চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে।

রূপক/ মাগুরা/ ১৫ মার্চ ২২






Comments are Closed