Main Menu

বিকল্প কৃষি....

কাঁঠাল পাতায় বাড়তি আয়

magura jackfruits leaf picture 01

মো. আনোয়ার হোসেন শাহীন, মাগুরাবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কাঁঠাল গাছের পাতা থেকে বাড়তি আয় করছেন মাগুরার চারটি উপজেলার দশ হাজার কৃষক। কাঁঠাল থেকে মৌসুমে একবার আয় হয় আর পাতা থেকে আয় হয় সারা বছর। ছাগলের খাবারের জন্য শহর-গ্রামে কাঁঠাল পাতার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নতুন এই ব্যবসা দিনদিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি কাঠাল গাছ আছে। এর অর্ধেকের বেশি গাছ আছে সদর উপজেলায়। এখানে কাঁঠাল গাছের অর্ধশতাধিক বড় বাগান রয়েছে । এমন কোন কৃষকের বাড়ি পাওয়া যাবেনা যেখানে দুই-একটি কাঁঠাল গাছ নেই।
এসব গাছে মৌসুমে প্রচুর কাঁঠাল ধরে। দ্রুত পচনশীল হওয়ায় কৃষক এই ফলের তেমন দাম পাননা বললেই চলে। এতে দিন দিন নতুন করে কাঁঠাল গাছ রোপণে আগ্রহ হারচ্ছিলেন তারা। অন্যদিকে ছাগলের খাবার হিসেবে প্রথম পছন্দ কাঁঠাল পাতা। বানিজ্যিকভাবে ছাগল পালন বেড়েছে এতে কাঁঠাল পাতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সারা বছর বাড়তি আয় করছেন কৃষক। ব্যাপারিরা নিজেরাই গাছের ছোট ডালের পাতা সংগ্রহ করেন। এজন্য গাছ মালিকের কোন বাড়তি খরচ হয় না।
সদরের বেলনগর গ্রামের কৃষক শারিফুল ইসলাম জানান, তার বাগানে একশ’র বেশী কাঁঠাল গাছ আছে। বছরে একবার কাঁঠাল থেকে কিছু আয় হয়। গাছ কেটে আমবাগান করার পরিকল্পনা ছিল। এখন পাতা থেকে সারা বছর আয় হচ্ছে। এতে কাঁঠাল বাগান লাভের মুখ দেখছে। পুরনো বড় দশটি গাছ থেকে বছরে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার পাতা বিক্রি করা যায় বলে জানান শরিফুল।’
শ্রীপুরের সারঙ্গদিয়া এলাকার বাসিন্দা তাহাজ্জুত হোসেন বলেন, ‘ছাগলের প্রিয় খাবার কাঁঠাল পাতা। চারটি ছাগলের জন্য প্রতিদিন দুই আঁটি পাতার দরকার হয়। সাথে কিছু দানাদার খাবার দিলে দিন চলে যায়।’
মাগুরা সদরের কাচা বাজারের পাতা বিক্রির ব্যবসায়ি আলতাফ হোসেন বলেন,‘জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্যান-নসিমেনে করে কাঁঠাল পাতা আসে। আমরা পাইকারি কিনে বিক্রি করি। প্রতি আঁটি পাতা ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বেড়ে যায়।’
জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা কানাই লাল স্বর্ণকার জানান, ‘লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকের পাশাপাশি সৌখিন ছাগল পালন বাড়ছে। ছাগলের প্রধান খাবার কাঁঠাল পাাতা। দিনের পর দিন খেলেও অরুচি আনে না।’
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ‘ কাঁঠাল পাতা লাজনক কৃষি পণ্যে হিসেবে স্থান পেয়েছে। সারা বছর গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়। এতে কাঁঠালের ফলনে কোন প্রভাব পড়ে না। পাতা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষক।’

শাহিন/রূপক/২৯ জানুয়ারি ২০১৭






Comments are Closed